বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৯ এপ্রিল ২০১৬

পরমাণু শক্তি কেন্দ্র,ঢাকা

পারমাণবিক শক্তির কল্যাণকর  ব্যবহার ও  পারমাণবিক প্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নয়নের লক্ষে ১৯৬২ সালে ঢাকার প্রাণ কেন্দ্রে স্থাপিত পরমাণু শক্তি কেন্দ্র , বাংলাদেশের গবেষণার ক্ষেত্রে  এক নব অধ্যায়ের সূচনা করেছে। পরমাণু শক্তি কেন্দ্র, ঢাকা একটি ৩ মেগা ভোল্ট ভ্যানডি গ্রাফ  এক্সিলারেটর, একটি ৫০০০ কুরি কোবাল্ট- ৬০ সোর্স এবং সর্বপ্রথম বাংলাদেশে স্থাপিত আই, বি, এম- ১৬২০ মডেলের একটি ডিজিটাল কম্পিউটার নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করে। শুরুতে তাত্ত্বিক ও পরীক্ষণ পদার্থ বিজ্ঞান, রেডিওবায়োলজি, এবং নিওক্লিয়ার মেডিসিনের বিভিন্ন বিষয়ের উপর গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হতো।

পরবর্তীতে দেশে ও বিদেশে অবস্থিত বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের সাথে পারস্পারিক সহযোগিতামূলক গবেষণা আরম্ভ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এই কেন্দ্র মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা এবং ভৌত বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়কে একাডেমিক পর্যায় পি.এইচ.ডি, এমফিল এবং অন্যান্য ডিগ্রি সম্পাদনে সক্রিয় ভাবে সহযোগিতা করে আসছে। এই দেশের বিভিন্ন বড় বড়  গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অগ্রদূত ছিল এই কেন্দ্র, যার ফলশ্রুতিতে সৃষ্টি হয়েছে  Space Research and Remote Sensing Organization (SPARSO), Bangladesh Institute of Nuclear Agriculture (BINA) এবং Institute of Atomic Energy Research Establishment (AERE), সাভার, ঢাকা। বর্তমানে জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী বিভিন্ন খাত যেমনঃ স্বাস্থ্য, পরিবেশ, বাণিজ্য, কৃষি, শিল্প প্রভৃতি ক্ষেত্রের চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তার উপর যথাযথ গুরুত্ব আরোপ করে পরমাণু শক্তি কেন্দ্রের গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গৃহীত ও পরিচালিত হয়। মানব স্বাস্থ্য, পরিবেশ, নিধংসী  পরীক্ষা, রেডিয়েশন থেকে সুরক্ষা ইত্যাদি সংক্রান্ত অনেক ফলপ্রসূ এবং কার্যকরী গবেষণা এই কেন্দ্রের পরীক্ষাগার সমূহে সম্পন্ন হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরিচালিত কর্মসূচীর আওতায় বাংলাদেশে আর্সেনিক সংক্রান্ত রোগের সঠিক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা সম্ভবপর হয়েছে। আরও একটি উল্লেখযোগ্য সফলতার দৃষ্টান্ত হলো ঢাকার বাতাসে বিভিন্ন কণা এবং বিষাক্ত সীসার উপস্থিতি সনাক্তকরণ, যা সেই সময়ে সরকার ও জনগণের দৃষ্টিগোচরে আসে। এর ফলে পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে সীসাযুক্ত গ্যাসোলিন এবং এই গ্যাসোলিন ব্যাবহারকারী দুই-স্ট্রোক বিশিষ্ট যানবাহন নিষিদ্ধ ঘোষনার পাশাপাশি গ্যাসোলিনের পরিবর্তে রুপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রচলন করে। বর্তমানে পরমাণু শক্তি কেন্দ্রের গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে এর ১০ টি বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিভাগের ৬০ জন দক্ষ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী নিয়োজিত রয়েছেন। এই কেন্দ্রে মোট ২১০ জন কর্মী রয়েছে যার মধ্যে ৮৩ জন কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন।  

 


Share with :
Facebook Facebook