বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৯ এপ্রিল ২০১৬

রসায়ন বিভাগ

 

গবেষণার ক্ষেত্রসমূহঃ

রসায়ন বিভাগের বিজ্ঞানীরা সুদীর্ঘ চার দশকের অধিক সময় ধরে বিভিন্ন পদ্ধতির উন্নয়ন ও বিকাশসাধনের মাধ্যমে বিভিন্ন নমুনায় ট্রেস-মৌল, আল্ট্রাট্রেস-মৌল (বিষাক্ত এবং প্রয়োজনীয় উভয়ই) এবং বিষাক্ত জৈবযৌগের বিশ্লেষণধর্মী গবেষণায় নিয়োজিত আছেন। মানবদেহ ও পরিবেশের উপর এসকল উপাদান ও যৌগের কি প্রভাব তা জানার লক্ষ্যে বর্তমান বিশ্বে গবেষণা কার্যক্রম প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমতাবস্তায়, দেশের আর্থ-সামজিক উন্নয়নে রসায়নশাস্ত্রের সুনির্দিষ্ট কিছু শাখা যেমন পরিবেশ দূষণ, পুষ্টি, দূষণ-প্রতিক্রিয়া, মৌল বিশ্লেষণে নিউক্লিয়ার এনালাইটিক্যাল কৌশল এবং শিল্পে ট্রেসার টেকনোলজির ব্যবহার প্রভৃতিতে রসায়ন বিভাগের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এছাড়াও রসায়ন বিভাগ সমন্বিত গবেষণা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশেষ মঞ্জুরী কর্মসূচী ‘মোস্ট’ এর আওতায় আইএইএ/ আরসিএ কাঠামো অনুযায়ী বিভিন্ন গবেষণামূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে থাকে। বর্তমানে মূলতঃ যেসকল ক্ষেত্রে রসায়ন বিভাগের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে তা নিম্নরূপঃ

 

১। বায়ু-দূষণ গবেষণা কার্যক্রম

২। নিউক্লিও-বিশ্লেষণমূলক রসায়ন

৩। বিশ্লেষণীয় ও পরিবেশ সম্পর্কিত রসায়ন

৪। জৈব রসায়ন

৫।তড়িৎ রসায়ন

 

বায়ু-দূষণ পর্যালোচনা

১। বায়ুর নমুনায় ব্ল্যাক কার্বনের বিশ্লেষণ।

২। বায়ুর নমুনায় পিএম ২.৫ এবং পিএম ১০ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ।

৩। জলীয় নমুনায় একই সাথে একাধিক এনায়ন বিশ্লেষণ।

 

নিউক্লিও-বিশ্লেষণমূলক রসায়ন

১। বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য এবং পরিবেশগত ও প্রাণীজরোগ নির্ণয়ে সরবরাহকৃত নমুনায় ট্রেস/ভারী মৌলের বিশ্লেষণ।

২। ফিজিকো-কেমিক্যাল ও জিও-কেমিক্যাল পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশের পানীয় জলের গুণগত মান পরীক্ষা করা।

৩। দূষণ মাত্রা (বিশেষত খাদ্যদ্রব্যে) নির্ণয়ের মাধ্যমে এর স্বাস্থ্য ঝুঁকি পর্যালোচনা।

৪। দেশেরে বিভিন্ন নদীসমূহের দূষণমাত্রা নির্ণয়ের মাধ্যমে বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা

 

বিশ্লেষণীয় ও পরিবেশ সম্পর্কিত রসায়ন

১।পরিবেশ ও প্রাণীজ নমুনায় ট্রেস অথবা বিষাক্ত উপাদান এবং রেডিওনিউক্লাইডের বিশ্লেষণ।

২। রোগ নির্ণয়ে মানব-মূত্র ও রক্তের জলীয় অংশে ভারী মৌলের উপস্থিতি ও পরিমাণ নির্ণয়।

৩। জলীয় নমুনায় বিভিন্ন আয়নিক বিশ্লেষণ।

 

জৈব রসায়ন

১। পরিবেশগত নমুনায় বহুচক্রীয় সুগন্ধি হাইড্রোকার্বন ও খনিজ হাইড্রোকার্বনের বিশ্লেষণ (উদাহরণঃ মাটি, পানি, শাকসব্জি ইত্যাদি)

২। পরিবেশগত নমুনা যেমন পানিতে এন্টিবায়োটিকের  (সেফালোসপরিন ও পেনিসিলিন) বিশ্লেষণ।

৩। পরিবেশগত নমুনায় কিছু ক্লোরো-কম্পাউন্ডের এবং প্রকৃতিগত পণ্যে প্রয়োজনীয় তৈলের বিশ্লেষণ।

তড়িৎ রসায়ন

১। পানি, মাটি ও কঠিন শিলার মধ্যে বিষাক্ত উপাদান এবং রেডিও নিউক্লাইড নির্ণয়।

২। ধাতু-জৈব জটিল যৌগের বৈশিষ্ট্য নিরূপণ।

৩। তড়িৎ রাসায়নিক পদ্ধতিতে অবস্থান্তরিত সংকর ধাতুর ইলেকট্রোড দ্বারা জ্বালানি-হাইড্রোজেন উৎপাদন।

 

গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মকান্ডঃ

১। মৌলের সামান্যতম অংশ পরিমাপের জন্য নিউক্লিয়ার কৌশলের উন্নতি সাধন।

২। বাংলাদেশের বায়ুর গুনগত অবস্থা নিরূপণের মাধ্যমে আঞ্চলিক বায়ুদূষণ পর্যালোচনা করা।

৩। পরিবেশগত এবং প্রাণীজ নমুনায় মৌলের যে কোনও পরিমাণ উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতির উন্নতিসাধন।

৪। বেস লাইন ডাটা তৈরীর লক্ষ্যে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকার পরিবেশগত বিভিন্ন পদার্থ যেমন মাটি, পানি, নদীর তলানী ও শাকসবজী পর্যালোচনা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা।

৫। পুষ্টি, বিষক্রিয়া এমনকি রোগ নির্ণয়ের জন্য মানবদেহের বিভিন্ন অংশ যেমন ফ্লুইড, টিস্যু, চুল ও নখ ইত্যাদিতে বিভিন্ন মৌলের উপস্থিতি ও পরিমাণ নির্ণয়।

৬। শিল্পে ট্রেসার টেকনোলজির ব্যবহার।

৭। পরিবেশগত এবং প্রাণীজ নমুনায় ক্ষতিকর জৈব যৌগের অনুসন্ধান করা।

৮। সেচ কার্যের জন্য শিল্প বর্জ্যের উপযোগিতা যাচাইকরণ।

৯। ক্ষতিকর বিষাক্ত মৌলসমূহ খাদ্যদ্রব্যে চলে আসার কারণে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি পর্যালোচনা।

১০। জলীয় পদার্থের ইলেকট্রোলাইসিসের জন্য ব্যবহৃত স্বল্প মূল্যের অবস্থান্তরিত ধাতব ইলেকট্রোডের তড়িৎ-রাসায়নিক পর্যালোচনা।

 

আন্তর্জাতিক প্রকল্পসমূহঃ

১। এশিয় অঞ্চলে বায়ুকণাজনিত বায়ু দূষণের উৎস ও প্রকৃতি নিরূপণ (আরএএস/৭/০২৩)

২। রেডিও ট্রেসার ও সিল্ড সোর্স টেকনিক অবলম্বনে জটিল শিল্প প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন তরলের প্রকৃতি এবং আদর্শ গতিশীলতা নির্ধারণ (আরএএস/১/০১২)


শিক্ষা কর্মসূচীঃ

বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে রসায়ন বিভাগের সহযোগিতামূলক কর্মসূচীর সুন্দর ধারাবাহিকতা বিদ্যমান রয়েছে। রসায়ন বিভাগের নিজস্ব গবেষণা সুবিধা এবং তত্ত্বাবধানে এসব বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষার্থীরা তাদের এম.এস-সি/এম.ফিল/এম.ডি/পি-এইচ.ডি/এফ.সি.পি.এস ইত্যাদি ডিগ্রির জন্য গবেষণা করে থাকেন।

 

সেবাসমূহঃ

রসায়ন বিভাগ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, শিল্প, এন.জি.ও, হাসপাতাল, ক্লিনিক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সরবরাহকৃত নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে সেবা প্রদান করে থাকে। রসায়ন বিভাগে সেবার গুণগত মান অক্ষুন্ন রেখে প্রধানতঃ নিম্নোক্ত বিষয়ের উপর সেবা প্রদান করা হয়ঃ

১। খাদ্যদ্রব্য, পরিবেশগত ও প্রাণীজ নমুনা এবং চিকিৎসার্থে সরবরাহকৃত নুমনায় বিভিন্ন মৌলের সামান্যতম উপস্থিতির পরিমাপ।

২। পানির বিভিন্ন ভৌত ও রাসায়নিক সূচক নির্ণয়।

৩। পানিতে আর্সেনিক, বিষাক্ত উপাদান এবং জীবাণুনাশক ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট উপজাত নির্ণয়।

৪। খাদ্যদ্রব্য, রপ্তানিযোগ্য সাদা মাছ ও চিংড়িতে ভারী মৌল নির্ণয়।

৫। শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল এবং শিল্পজাত পণ্য যেমনঃ ঔষধ, অকটেন বুস্টার, সার, প্লাস্টিক দ্রব্যাদি, ইস্ট পাউডার ও তৈরী পোশাক ইত্যাদিতে ভারী মৌলের উপস্থিতি নির্ণয়।

৬। ক্রিমের মধ্যে মারকারি।

৭। পানিতে ফেনল এবং ফেনলজাত যৌগ।

৮। পানি ও মাছে বিষাক্ত বহুচক্রীয় সুগন্ধি হাইড্রোজেন যেমনঃ এনথ্রাসিন, ফিন্যানথ্রিন, ন্যাপথালিন, পাইরিন, ফ্লুরিন ও বেনজো-পাইরিন ইত্যাদি।

৯। প্রকৃতিগত বিভিন্ন পণ্যের জৈব বিশ্লেষণ।

১০। স্বর্ণ ও রৌপ্য পদক এবং অলংকারের খাঁটিত্ব পরীক্ষা।

১১। রোগ নির্ণয়ার্থে মূত্রে কপার, মানব চুলে আর্সেনিক, রক্তের জলীয় অংশে কপার ও জিংক এবং নখে সেলিনিয়াম নির্ণয়।

১২। শিল্প এলাকার পার্টিকুলেট ম্যাটার, লেড, আর্সেনিক ও এসিড মিস্ট পরিমাপ।

 

ট্রেসার টেকনোলজি


Share with :